দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নিয়ন্ত্রণাধীন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত করায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পিটিআইয়ের অভিযোগ, প্রাদেশিক বাজেটের সম্পদের ওপর দলের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা এবং ইমরান খানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে সমর্থকদের ইসলামাবাদ অভিমুখে যাত্রা ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের হাইকোর্টে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে পিটিআই। ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফি বুখারি বলেন, ‘ইমরান খানের মৌলিক মানবাধিকারকে সন্ত্রাসবাদের মতো একটি জটিল বিষয়ের সঙ্গে এক করে দেখা হাস্যকর।’
জরুরি অবস্থা জারির আগে ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থক প্রদেশটিতে সমাবেশ করেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, ইমরানের মুক্তি ও জরুরি চিকিৎসার দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা করা। তবে কর্মসূচির আগেই ইমরানের তিন বোন এবং দলীয় নেতাসহ শত শত সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজাম শেঠি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরান খানের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তাঁর ভাষায়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে পিটিআই দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইমরান খানের জন্য কোনো ছাড় আদায় করতে পারেনি; একই সঙ্গে খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিজেদের সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং দলীয় নেতাদের কারাবন্দি হতে দিয়েছে।’
শেঠির মতে, এ পরিস্থিতি ইমরান খান ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বকেও আরও জটিল করে তুলেছে।
কারাগারে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
একসময়ের জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। কয়েক মাস ধরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইমরানের পরিবার ও দল তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের দাবি, এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা, রক্তচাপের ওঠানামা এবং দীর্ঘ সময় একাকী কারাবাসের কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ মোকাবিলায় তাঁর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
দুই বছর আগে পিটিআইয়ের সর্বশেষ বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রাণঘাতী সংঘর্ষে গড়িয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার পিটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে।
আলোচনায় ইমরান খানের জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা, কারাগারে সাক্ষাতের অনুমতি এবং লন্ডনে বসবাসরত তাঁর ছেলেদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানায় পিটিআই।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পিটিআইয়ের কাছে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ইসলামপন্থী জঙ্গিবাদের প্রকাশ্য নিন্দা, জঙ্গি হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মীদের জানাজায় অংশগ্রহণ এবং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার দাবি জানায়।
রয়টার্সকে তালাল চৌধুরী বলেন, ‘তাদের প্রায় সব দাবিই আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু পিটিআই সরকারের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।’
প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির নজির
পাকিস্তানে ১৯৭৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন প্রদেশে পাঁচবার জরুরি অবস্থা জারির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনবার খাইবার পাখতুনখোয়ায় এবং একবার করে পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় সর্বশেষ এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইমরান খানের মুক্তি, চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তাঁর দলের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে চলমান বিরোধ আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/